রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৬

Life Story of Bill Gates

  বিল গেটসের জীবনী   Life Story of Bill Gates  Documentary (English) : Link   Life Story of Bill Gates  Documentary (... thumbnail 1 summary

 

বিল গেটসের জীবনী

 



Life Story of Bill Gates  Documentary (English) : Link 
Life Story of Bill Gates  Documentary (Bangla) : Link



 
বিল গেইটস আমেরিকার শহর সিয়াটল ২৮ অক্টোবর ১৯৫৫ সালে জন্মগ্রহন করেন । পিতা উইলিয়াম হেনরি। পেশায় নামকরা উকিল। মা চাকরি করতেন United way নামক এক প্রতিষ্ঠানে। হেনরি পরিবারের এক মাত্র ছেলে বিল। তাদের আরো দুইটি মেয়ে ছিল। বিলের বড় বোনের নাম ক্রিস্টিনা  ( kristianne) এবং ছোটো বোনের নাম লিবি (Libby)
 
বাবা মায়ের ইচ্ছা ছিল বিল গেটস বড় হয়ে বাপের মতই উকিল হোক।  ১৩ বছর বয়সে বাসার কাছের একটা স্কুল Lakeside school এ তাকে ভর্তি করিয়ে দেয়া হয়। এই স্কুল থেকেই তাঁর কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহ জন্মে। তাঁর মাথায় ঘুরপাক খায় কিভাবে কম্পিঊটার এত সহজে প্রোগ্রামগুলো সহজে ধরতে পারে?
এই স্কুলেই তাঁর কম্পিউটারের উপর প্রোগ্রামিং  করে এবং প্রথম প্রোগ্রাম তৈরি করেছিলেন এই স্কুলেই। ‘Tic-tac-toe’ এই প্রোগ্রামটি কম্পিউটারের বিরুদ্ধে গেইম খেলার জন্য ব্যবহার করত। 



 ১৯৭৩ সালে Lakeside school থেকে তাঁর গ্র্যাজুয়েশন শেষ হয়। সেই সালে তিনি হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এখানেই তাঁর সাথে পরিচয় ঘটে Steve ballmer এর সাথে। তিনি হলেন বর্তমান মাইক্রোসফটের সহকারী পরিচালক। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বছরে কিছু পোগ্রামিং সমস্যার একটা সিরিজ সমাধান করে ফেলেন। ৩০ বছরের মদ্ধ্যে এটি সবচেয়ে দ্রুততম সিরিজ সমাধান ছিল।

যদিও বিলের বাবা মায়ের স্বপ্ন ছিল ছেলে উকিল হবে। তবে তাঁর বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরনে তেমন আগ্রহী হতে দেখা গেল না। অবশ্য তেমন কোন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল না যে সামনে কিভাবে নিজেকে যোগ্য করবেন। তবে তাঁর মন ঐ কম্পিউটারের পিছনেই পড়ে থাকত। শেষে তিনি স্কুলের সেই বন্ধু পল এল্যান আসতে বললেন হাভার্ডে। মূলত বন্ধুর ডাকেই সাড়া দিয়ে হাভার্ডে যোগ দিলেন পল।

এর মাঝে MITS (Micro instrumentation and telemetry system ) তাঁদের MITS Altair 8800 বের করে। এটি একটি মাইক্রোকম্পিউটার বিশেষ। MITS Altair 8800 বের হওয়ার পর গেটস MITS এর সাথে যোগাযোগ করলেন। তিনি তাঁদের জানান যে তাঁদের Altair 8800 তে তিনি নতুন কিছু প্রোগ্রাম যুক্ত করতে চান। MITS এর প্রেসিডেন্ট বেশ আগ্রহ দেখালেন। তিনি বিলের কাছে Demo চেয়ে বসলেন। বিল BASIC নামে একটি demo তৈরি করেন। MITS তাঁদের কম্পিউটারে Demo ব্যাবহার করে বিস্ময়কর ফলাফল পায়। পরে এই প্রোগ্রাম নিয়ে পরবর্তীতে MITS তাঁদের নতুন এডিশন ছাড়ে। এর পরে পল MITS এ চলে যান। পলকে সাহায্য করার জন্য হাভার্ড থেকে ছুটি নেন বিল।

  তিনি পলের সাথে পার্টনারশীপে একটি অফিস খুলেন। নিউ মেক্সিকোর "Albuquerque" নামে এক এলাকায় প্রথম অফিস খুলেন। ১৯৭৬ সালের ২৬ নভেম্বরে মেক্সিকোর বানিজ্য সচিবের অনুমতিক্রমে MITS এর আওতায় একটি প্রতিষ্ঠান খুলেন। এটই ছিল Microsoft এর প্রথম অফিস। 


 Microsoft এর প্রথম অফিস টিমের ছবি


১৯৭৭ সালে MITS থেকে Microsoft সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটি সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট এর উপর কাজ করতে থাকে। বিল ভাবলেন তাঁর প্রতিষ্ঠাঙ্কে তাঁর নিজ দেশে নিয়ে যেতে হবে। তিনি নিউ মেক্সিকো থেকে Microsoft কে ওয়াশিংটন শহরের Bellevue শহরে নিয়ে আসেন। এখানে এসে কোম্পানীর জন্য লোন খুজতে শুরু করলেন। নতুন কোম্পানী বলে কেউই লোন দিতে রাজি নয়। অনেক চেষ্টা করে কাছের এক ব্যাঙ্ক থেকে লোন পান তিনি।

১৯৮০ সালে IBM একক ব্যবহারের জন্য একটি কম্পিউটার তৈরির সিদ্ধান্ত  নেয়। Acron ছদ্মনামে একটি গোপন প্রজেক্ট শুরু করে। এই কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম তৈরির জন্য Microsoft কে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপরে MS- Dos নামক একটি অপারেটিং সিস্টেম IBM কে দেয়া হয়। IBM এটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। এখানে একটা বিষয় হল যে Dos অপারেটিং সিস্টেমটি কিন্তু সম্পূর্ণভাবে Microsoft দ্বারা তৈরি না। বিল গেইটস ওয়াশিংটন শহরের সিয়াটল শহরের ছোট্ট একটি হার্ডওয়ার দোকান থেকে QD-DOS(Quick and dirty dos) নামে একটি অপারেটিং সিস্টেম US$ ৫০,০০০  কিনে নেন। এটিকেই IBM এর মাইক্রোপ্রোসেসর অনুযায়ী পরিবর্তন করে MS-Dos করা হয়।

 
১৯৮৫ সালে বিল গেটসের স্বপ্ন পূরনের বছর। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন নিজেদের তৈরি একটা অপারেটিং সিস্টেম তিনি বাজারে ছাড়বেন। ২০ নভেম্বর Microsoft প্রকাশ করলো তাঁদের প্রথম অপারেটিং সিস্টেম Windows 1.0.



১৯৯২ সালের দিকে তিনি IBM এর আওতা থেকে মুক্ত হলেন। অর্থাৎ তিনি সম্পুর্ন আলাদাভাবে Microsoft Windows এর এডিশনগুলো ছাড়তে লাগলেন। Microsoft এর বাজার সমৃদ্ধ্য হতে লাগল। আস্তে আস্তে Microsoft বাজারে বেশ ভাল ভাবে অবস্থান  নিল। একের পর এক Microsoft এর নতুন নতুন আবিষ্কার বাজারে আসল। আর ব্যাপকভাবে সাড়া পেল Microsoft.



 
  • ১৯৯০তে Windows 3.0
  • ১৯৯৫তে Windows 95
  • ১৯৯৮ তে Windows 98
  • ১৯৯৯ তে Windows 2000, Office 2000
  • ২০০০ তে Windows ME
  •  ২০০১ তে Windows XP
  • ২০০৫ তে Windows XP Media Centre 2005
  • ২০০৬ তে Windows Vista
  • ২০০৭ তে Microsoft word 2007
  • ২০০৮ তে Microsoft Windows server 2008
  • ২০০৯ তে Windows 7 এর সূচনা 
  •  ২০১২ তে Windows 8 
  • ২০১৫ তে Windows 10 
  • ২০১৬ তে Windows 10 (Anniversary update)


বিল গেটসকে আর পিছনে তাকাতে হয় নি। বরং সবাই অবাক হয়ে তাকে দেখেছে। Microsoft এর কাজ । কারন ঘরে ঘরে কম্পিউটার চালনা মূলত তাঁর অপারেটিং সিস্টেমের কারনে হয়েছে। কারন Windows ছিল চিত্রভিত্যিক অপারেটিং সিস্টেম। আগে যেমন কোড লিখে লিখে কম্পিঊটার চালাতে হত সেটি আর থাকছে না। এর ফলে কম্পিউটার চালানো সহজতর হয়ে গেল। অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের চেয়ে Windows চালানো সহজ। যার কারনেই Microsoft এর ব্যাপক সাফল্য পায়। আর সাফল্যের সাথে যশ, খ্যাতি, ক্ষমতা এবং অর্থ বাড়ে।

১৯৮৭ সালে Fobers পত্রিকায় ৪০০ বিলিওয়ানের মধ্যে তাঁর নাম চলে আসে। বয়স তখন মাত্র ৩২ বছর। তখন তাকে স্বীকৃতি দেয়া হয় নিজের আত্ম প্রচেষ্টায় হয়ে ওঠা সবচেয়ে কম বয়স্ক বিলিওনার। তখন সম্পদের পরিমান ছিল ১.২৫ বিলিওন। কয়েকদিনের মধ্যেই আরো যোগ হল ৯০০ বিলিওন।

১৯৯৩ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত তিনি ছিলেন Fobers পত্রিকা জরীপে বিশ্বের ১ নাম্বার ধনী ব্যাক্তি। ছিলেন টানা ১৬ বছর। Times ম্যাগাজিন তাকে “One of the 100 people who most influenced the 20th century” এর তালিকায় ১ম স্থানে থাকেন। ১ম স্থান ধরে রাখেন ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালেও।

 ২০০৫ সালে টাইমস বিল গেটসের স্ত্রী ‘মেলিন্ডা’ কে “person of the year “ এর পুরষ্কার হিসেবে ভূষিত করেন। ২০০৫ সালেই ইংল্যান্ডের রানী ২য় এলিজাবেথ তাকে “Honorary Knight Commander of the Order of the British Empire (KBE)” পদকে ভূষিত করেন।

তিনি ২০০৮ সালে  Microsoft থেকে অবসর নেন। অবসর নেয়ার পর তিনি তাঁর দাতব্য সংস্থ্যাগুলোর প্রতি মনোযোগ দেন। দরিদ্র দেশ গুলোতে এবং নানা ধরনের মহামারীতে তিনি অর্থ অনুদান করতে থাকেন। প্রযুক্তি যেন সবখানে পৌছতে পারে সেদিকে তিনি নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন।


 ব্যক্তিগত জীবন বলতে স্ত্রী মেলিন্ডা ও তিন সন্তান। দুই মেয়ে Jennifer Katharine ও Phoebe Adele এবং একমাত্র ছেলে Rory John । এত অর্থ সম্পদের মালিক বিল গেটসের জীবন খুব সাধাসাধি ভাবে কাটাতে ভালবাসেন। ওয়াশিংটনের মেডিনার লেকে পর্বত মুখি ছিমছাম বাড়ি তাঁর। এই বাড়ির নাম ‘The Gates Home’ ৬৬০০০ বর্গফুটের এই বাড়িতে ৬০ ফুট গভীর সুইমিংপুল। সুইমিনপুলের সাথে ওয়াটার মিউজিক সিস্টেম। আরো আছে ২৫০০ ফুটের ব্যামাগার এবং ১০০০ ফুটের ডাইনিং স্পেস।


সুত্রঃ অনলাইন এবং  শুভসকাল




কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন